ইরানের ৭০,০০০ মসজিদের ৫০,০০০ বন্ধ

০২ জুন, ২০২৩ তারিখের খবর – ইরানের ৭০,০০০ মসজিদের ৫০,০০০ বন্ধ?  অবিশ্বাস্য!!

কিন্তু এটা অনেক দেশের অনেক মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে, সার্চ – “50000 mosques closed in Iran”। তার মধ্যে “পাকিস্তান ডেইলি টাইমস”, বিশেষ করে “ইরান নিউজ আপডেট” ও “ইরান ইন্টারন্যাশন্যাল”-কে নির্ভরযোগ্য মনে হয়েছে। তাছাড়া এ খবরের বিরুদ্ধে ইরানী সরকার বা আবুল কাশেম দৌলাবীর কোন প্রতিবাদ ইন্টারনেটে পাওয়া যায়নি।  খবরটা সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে, ইরানী সরকারের প্রতিবাদ না আসা পর্যন্ত বিশ্ব এটা সত্যি বলেই ধরে নেবে।  

1. পাকিস্তান ডেইলি টাইমস :- https://dailytimes.com.pk/…/over-60-mosques-in-iran…/

2. ইরান ইন্টারন্যাশন্যাল- https://www.iranintl.com/en/202306027255

3. ইরান নিউজ আপডেট- https://irannewsupdate.com/…/ali-khameneis-address…/

অনেকদিন ধরেই ইরানীদের কাছ থেকে এটা শুনছিলাম, এখন প্রমান হলো। মানুষ দমন-পীড়ন সহ্য করতে করতে এক সময় বিস্ফোরিত হয়। ১৯৭৯ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে ওই জালেমরা মানুষের ওপর, বিশেষ করে নারীদের ওপর ইসলামের নামে যে অমানুষিক অত্যাচার করেছে ও করছে তাতে এটা হবারই ছিল। ক্ষমতা দখলের পর ইরানের একমাত্র নোবেলরিয়েট ড. জাস্টিস শিরিন এবাদীকে জালেমরা ওই কোর্টেরই কেরানী বানায় – তিনি পদত্যাগ করেন। অথচ তারা সুশাসন করে তাদের ইসলামী রাষ্ট্রতত্ত্বের বৈধতা প্রমান করতে পারত।

ইরানে পুরো শাসনব্যবস্থা প্রত্যক্ষ ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে প্রেসিডেন্টের পছন্দের সদস্যদের নিয়ে গড়া “সূরা-য়ে নিগাহবান” কমিটি (গাইডেন্স কাউন্সিল)। এর সদস্য ইরানের সর্বোচ্চ স্তরের আমলা মোহাম্মদ আবুল কাশেম দৌলাবি, তিনি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও ইসলামিক বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়কারীও। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন ইরানিরা মসজিদে আসা কমিয়ে দেয়াতে ৭৫,০০০ মসজিদের প্রায় ৫০,০০০টি বন্ধ রয়েছে, ইরানে যেভাবে ধর্মের প্রয়োগ হয়েছে তা মানুষকে ইসলাম ত্যাগের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সমাজে ধর্মবিমুখতা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় শাসকদের বৈধতার যে দুর্বলতা, তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন:- “ধর্মের নামে অত্যাচার ও মানুষকে সুন্দর জীবন থেকে বঞ্চিত করা, ধর্মীয় ধারণা ও শিক্ষায় মিথ্যাচার সহ অনেক বিষয়ে ধর্মপ্রয়োগের ফলাফল দেখে মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় সে ধর্মে থাকবে নাকি ধর্ম ছেড়ে দেবে। ক্রমেই বেশী সংখ্যক ইরানীরা শাসকদের নৃশংস স্বৈরাচারকে ইসলামের নামে বৈধ করা দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। অনুপযুক্তভাবে হিজাব পড়ার জন্য “নীতি পুলিশ”-এর হাতে মাইশা আমিনীর হত্যাতে গত সেপ্টেম্বর থেকে তাদের বিস্ফোরিত বিক্ষোভে সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে”।

আমাদের এই গ্রহটা ঘন্টায় প্রায় এক লক্ষ কিলোমিটার বেগে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে আমরা টের পাইনা, ঠিক তেমনি মানুষের ধর্মবিশ্বাসেরও বিন্দু বিন্দু করে বিবর্তন ঘটছে আমাদের অগোচরে। বিদেশে আসার পর থেকে গত প্রায় ৫০ বছরে পর্যবেক্ষন করছি বিশ্বমানসে ধর্মের উপলব্ধি, ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে বিপুল বিবর্তন।

যতদূর মনে পড়ে প্রায় ২৫ /৩০ বছর আগে যখন শুধু ইয়াহু গ্রুপস আর ওয়েবসাইট ছাড়া আর কোন টেকনোলজি ছিলনা তখন দেখেছিলাম ড. আলী সিনা নামে এক ইরানি তাঁর বিপুল জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে (ফেইথ ফ্রিডম.অরগ – https://www.faithfreedom.org/) ঘোষণা দিয়েছেন তিনি তাঁর দেশ ইরানে ইসলাম ধ্বংস করে ছাড়বেন। তিনি কোথায় থাকেন কেউ জানে না, তবে তাঁর ওয়েবসাইটে বেশ কিছু মওলানার সাথে তাঁর টাইপ করা প্রশ্ন-উত্তরের বিতর্ক রাখা ছিল। তেমন বিতর্কে ড. জাকির নায়েক রাজি হননি, তিনি মঞ্চ-বিতর্কের আহ্বান জানিয়েছিলেন এই শর্তে যে, ড. সিনা’কে অন্তত এত হাজার দর্শক আনতে হবে। এটা একটা উদ্ভট শর্ত ছিল কারণ ইন্টারনেটে প্রশ্ন-উত্তর টাইপ করেই বিতর্ক হতে পারে এবং ড. সিনা গোপন অবস্থানে বাস করেন। যাই হোক, আমি বহু বছর থেকে ওটা ফলোআপ করিনি।

আজকের ইরান আর আয়াতুল্লাহ-দের নয়, আজকের ইরান মাইশা আমিনীদের প্রবল নারীশক্তির ইরান।

শিক্ষা – ধর্মের নামে অত্যাচার করবেন না। করলে আপনার ধর্মই ধ্বসে যাবে।

Leave a Comment